সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৯ অপরাহ্ন

  • BengaliEnglishHindi
সীমান্তে নাইক্ষংছড়ি ১১ বিজিবির সাহসীকতায়’ ৪ মাসে ৮ কোটি টাকার মালামাল’সহ ১৩ জন আটক, অস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধার
নুরুল ইসলাম বিজয়, উখিয়া, কক্সবাজার। / ১৫০ Time View
Update : সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

নুরুল ইসলাম বিজয় (উখিয়া)

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কক্সবাজার রিজিওন এর আওতাধীন নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দায়িত্বপূর্ণ এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন মানবিক জনকল্যাণমূলক কাজে সবসময়ই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি মাদকদ্রব্য পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ, মানব পাচার ও অপহরণসহ অন্তঃসীমান্ত অপরাধ শূন্যের কোটায় নিয়ে আসতে প্রতিনিয়ত নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন ১১ বিজিবি৷

নাইক্ষ্যংছড়ি ১১ বিজিবির সাহসীকতায় সফল অভিযানে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে- একনলা বন্দুক-১টি ও দেশীয় পিস্তল-১টি), ১০০০০ হাজার পিস ইয়াবা, ১০০০ ও বেশি গরু মহিষ ও অন্যান্য মালামালসহ ১৩ জন চোরাকারবারীকে আটক করা হয়। এছাড়াও বাংলাদেশে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ ৩৯ জন মিয়ানমার নাগরিক পুশব্যাক করা হয়েছে। সবমিলিয়ে গত চার মাসে অন্তত ৮ কোটি টাকার অবৈধ মালামাল আটক করা হয়েছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন ১১ বিজিবির দায়িত্ব প্রাপ্ত অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস কে এম কফিল উদ্দিন কায়েস।

তিনি জানান, নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন ১১ বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার বিআরএম-৪৪ হতে বিপি-৫৫ পর্যন্ত মোট ৩৫ কিলোমিটার এলাকার দায়িত্বরত রয়েছে যার সম্পুর্ণটাই মায়ানমারের সাথে। এই দায়িত্বপূর্ণ এলাকার জিরো লাইন পুরোটাই ঘন জঙ্গল রয়েছে যেখানে প্রায়শই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড লেগেই থাকে। তাই এই এলাকায় দায়িত্ব পালন করা অনেকটাই চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন ১১ বিজিবি’র আওতাধীন মোট-১২ টি বিওপি (জামছড়ি, আশারতলী, জারুলিয়াছড়ি, ফুলতলী, ভালুখাইয়া, লেম্বুছড়ি, পানছড়ি, হাতিমারাঝিড়ি, টারগুপাড়া, দোছড়ি, মিলেনপাড়া এবং টারগুছড়া বিওপি এবং বিজিবি ক্যাম্প-০২টি ছাগলখাইয়া ও তীরেরডিভা বিজিবি ক্যাম্প, এছাড়াও চেকপোস্ট-০২ টি আদর্শগ্রাম ও সোনাইছড়ি চেকপোস্ট রয়েছে। এই ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠার পর হতে প্রশাসনিক ও আভিযানিক কার্যক্রমসহ সকল কর্মকান্ড অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পালন করে চলছে। এই ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ অধিকাংশ বিওপি’র এলাকা দিয়ে মায়ানমার হতে মাদক ও চোরাচালান পাচার হয়ে আসে। নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন ১১ বিজিবির দায়িত্ব প্রাপ্ত অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস কে এম কফিল উদ্দিন কায়েস এর সর্বাগ্রে গুরুত্ব প্রদান করেন দায়িত্বপূর্ণ এলাকার উপর আধিপত্য বিস্তার করা। তাই তিনি বিভিন্ন সময়ে টহলদলসহ স্বশরীরে পায়ে হেঁটে দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় ডমিনেশন টহল পরিচালনা করেছেন।

এছাড়াও উক্ত ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস কে এম কফিল উদ্দিন কায়েস এর বুদ্ধিদীপ্ত সুকৌশল পরিকল্পনা, সময়োচিত দিকনির্দেশনা ও সাহসী নেতৃত্বের কারনে গত জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত (চার মাসে) অভিযান পরিচালনা করে ০২ টি অস্ত্র (একনলা বন্দুক-০১টি এবং দেশীয়-পিস্তল-০১টি), ১০০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৩৯ জন রোহিঙ্গা পুশব্যাক, এছাড়াও মিয়ানমার থেকে আসা গরু ছাগল মহিষ ১০০০ হাজারের বেশি জব্দ করা হয়েছে এবং অন্যান্য মালামালসহ ১৩ জন চোরাকারবারীকে আটক করে নিকটস্থ থানায় শোপর্দ করা হয়েছে। সবমিলিয়ে প্রতিমাসে দুই থেকে তিন কোটি টাকার অবৈধ মালামাল আটক হয়ে থাকে। গত চার মাসে অন্তত ৮ কোটি টাকার বিভিন্ন মালামাল আটক করা হয়েছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন ১১ বিজিবির দায়িত্ব প্রাপ্ত অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস কে এম কফিল উদ্দিন কায়েস বলেন, নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) গোয়েন্দা নজরদারী ও ডমিনেশন টহলের মাধ্যমে দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় আধিপত্য বিস্তারসহ এহেন আভিযানিক কার্যক্রম সার্বক্ষণিক চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
জনপ্রিয় সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ