নুরুল ইসলাম বিজয় (উখিয়া)
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কক্সবাজার রিজিওন এর আওতাধীন সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দায়িত্বপূর্ণ এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন মানবিক জনকল্যাণমূলক কাজে সবসময়ই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি মাদকদ্রব্য পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ, মানব পাচার ও অপহরণসহ অন্তঃসীমান্ত অপরাধ শূন্যের কোটায় নিয়ে আসতে প্রতিনিয়ত নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে কক্সবাজার জেলায় নবসৃজিত উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)।
গত (১ মার্চ) অনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন. স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী৷ উদ্বোধনের মাত্র ০২ মাসেরও কম সময়ে ৪,৪৩১ টি অভিযান পরিচালনা করে ০৩ টি পিস্তল (ওয়ান শুটার গান), ৩৪টি এ্যামুনিশন, ২,৯৫,০৯০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, অন্যান্য মালামালসহ ১২ জন চোরাকারবারীকে আটক করে থানায় শোপর্দ করা হয়।
উখিয়া ব্যাটালিয়ন ৬৪ বিজিবির দায়িত্ব প্রাপ্ত অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন৷
তিনি জানান, উখিয়া ব্যাটালিয়নের সীমান্ত পিলার বিআরএম-১১ হতে বিপি-৩০ পর্যন্ত মোট ৩১ কিলোমিটার এলাকার দায়িত্বরত রয়েছে যার সম্পুর্ণটাই মায়ানমারের সাথে। এই দায়িত্বপূর্ণ এলাকার জিরো লাইন পুরোটাই নাফ নদী বেষ্টিত এবং অনেকাংশেই ঘন জঙ্গল রয়েছে যেখানে প্রায়শই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড লেগেই থাকে। তাই এই এলাকায় দায়িত্ব পালন করা অনেকটাই চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)’র আওতাধীন বালুখালী বিওপি, পালংখালী বিওপি, হোয়াইক্যং বিওপি, উনচিপ্রাং বিওপি, জীম্বংখালী বিওপি, খারংখালী বিওপি ও হ্নীলা বিওপিসহ শীলখালী চেকপোস্ট ও ইমামের ডেইল চেকপোস্ট রয়েছে। এই ব্যাটালিয়ন গত ০১ মার্চ ২০২৫ তারিখে প্রতিষ্ঠার পর হতে প্রশাসনিক ও আভিযানিক কার্যক্রমসহ সকল কর্মকান্ড অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পালন করে চলছে। এই ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকার পুরোটাই নাফ নদীর তীরে এবং উক্ত এলাকায় ১৫টি রোহিঙ্গা ক্যাম্প রয়েছে। তাছাড়া অধিকাংশ বিওপি’র এলাকা দিয়ে মায়ানমার হতে মাদক পাচার হয়ে আসে। এমতাবস্থায়, নবসৃজিত এই ব্যাটালিয়নের আভিয়ানিক কার্যক্রম আরম্ভের সাথে সাথেই ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, পিএসসি সর্বাগ্রে গুরুত্ব প্রদান করেন দায়িত্বপূর্ণ এলাকার উপর আধিপত্য বিস্তার করা। তাই তিনি বিভিন্ন সময়ে টহলদলসহ স্বশরীরে পায়ে হেঁটে দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় ডমিনেশন টহল পরিচালনা করেছেন।
এছাড়াও উক্ত ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন,পিএসসি এর বুদ্ধিদীপ্ত সুকৌশল পরিকল্পনা, সময়োচিত দিকনির্দেশনা ও সাহসী নেতৃত্বের কারনে কোন প্রকার ফায়ারিং ও দুর্ঘটনা ব্যতীত মাত্র ০২ মাসেরও কম সময়ে ৪,৪৩১ টি অভিযান পরিচালনা করে ০৩ টি পিস্তল (ওয়ান শুটার গান), ৩৪টি এ্যামুনিশন, ২,৯৫,০৯০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, অন্যান্য মালামালসহ ১২ জন চোরাকারবারীকে আটক করে নিকটস্থ থানায় শোপর্দ করা হয়েছে।
উখিয়া ব্যাটালিয়ন ৬৪ বিজিবির দায়িত্ব প্রাপ্ত অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন নবসৃজিত উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) গোয়েন্দা নজরদারী ও ডমিনেশন টহলের মাধ্যমে দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় আধিপত্য বিস্তারসহ এহেন আভিযানিক কার্যক্রম সার্বক্ষণিক চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।