কক্সবাজারের টেকনাফ থানাধীন নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ই-ব্লকের পাশের একটি ইটভাটায় রোহিঙ্গা শান্তি ও প্রত্যাবাসন কমিটি (আরসিপিআর) এর উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় নয়াপাড়া সহ ক্যাম্প-২৪, ২৫, ২৬ ও ২৭ থেকে প্রায় হাজারো রোহিঙ্গা শরণার্থী অংশগ্রহণ করেন।
বক্তব্য রাখেন: উখিয়ার ১ নম্বর ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার দিল মোহাম্মদ, ১৬ ১ নম্বর ক্যাম্পের মুফতি মোহাম্মদ জুবায়ের, ১ নম্বর ক্যাম্পের মাওলানা মোহাদ্দেস আব্দুর রহিম, ১৩ নম্বর ক্যাম্পের মাস্টার মোজাম্মেল, ১৩ নম্বর ক্যাম্পের মাস্টার আলী জোহার, ২৬ নম্বর ক্যাম্পের মাওলানা মোস্তফা কামাল, ২৬ নম্বর ক্যাম্পের বদরুল ইসলাম, আরএসও নেতা মৌলভী সাইদুল আমিন, আরএআরএ নেতা আইয়ুব তৌকি ও আরসা নেতা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া প্রমুখ।
আলোচনা সভায় বক্তারা মিয়ানমারে নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিতে রোহিঙ্গাদের প্রতি আহ্বান জানান। ক্যাম্পের ভেতরে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা এবং ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ কাউছার সিকদার বলেন,“আমরা প্রত্যেক রোহিঙ্গার নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। ক্যাম্পে শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ আইন ভঙ্গ করলে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার দিল মোহাম্মদ বলেন, আমরা সবাই শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে হবে। ক্যাম্পের ভেতরে একে অপরের প্রতি সহযোগিতা ও ঐক্য বজায় রাখা আমাদের কর্তব্য। চাঁদাবাজি, অপহরণ, সংঘর্ষ ও হত্যার মতো অপরাধ থেকে বিরত থাকা জরুরি। আমরা বাংলাদেশের আইন-কানুন মেনে চলব এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও সরকারের সহায়তায় নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য সক্রিয় থাকব। আগামী রমজানের আগে প্রত্যাবাসন সম্ভব করতে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। আর যদি কেউ বাধা দেয়, আমরা বাধার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধ গড়ে তুলব।”
স্থানীয়রা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ প্রত্যাবাসনের মনোবল জাগিয়ে তুলবে এবং টেকনাফে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।