বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩১ অপরাহ্ন

  • BengaliEnglishHindi
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত না হলে আরও ভয়াবহ সংকটের আশঙ্কা: স্থানীয়দের ৮ দফা দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক / ১০৭১ Time View
Update : বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে রোহিঙ্গা সংকট দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার চাপ সামলাতে স্থানীয় জনগণ নানামুখী সংকটে পড়েছে। কৃষি জমি, বনভূমি, শ্রমবাজার, শিক্ষা ও সার্বিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে। এ অবস্থায় অনতিবিলম্বে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও স্থানীয়দের অধিকার নিশ্চিত করতে ৮ দফা দাবি তুলেছে স্থানীয় জনগণ।

রোববার (২৪ আগস্ট) বিকেল ৪টায় উখিয়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ দাবিগুলো উপস্থাপন করেন পালংখালী ইউনিয়ন অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রবিউল হোছাইন।

তিনি বলেন- মানবিক বিবেচনায় দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।

প্রসঙ্গ ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে নির্যাতনের মুখে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয় নেয়। সম্প্রতি (৫ আগস্ট ২০২৫) আরও ২ লাখ রোহিঙ্গা অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করেছে। বর্তমানে ৩৪টি শিবিরে রোহিঙ্গার সংখ্যা ১৬ লাখের বেশি। শ্রমবাজারে সস্তায় কাজ করায় স্থানীয়দের কর্মসংস্থান কমছে। ক্যাম্পে প্রায় ৫০ হাজার রোহিঙ্গা চাকরি করছে, অথচ স্থানীয়রা বেকার। এনজিও/আইএনজিও রোহিঙ্গাদের আর্থিকভাবে সক্ষম করে প্রত্যাবাসনে নিরুৎসাহিত করছে।

ক্যাম্পে ৪জি ইন্টারনেট, ব্রডব্যান্ড এবং প্রায় ১২ লাখ অবৈধ সিম ব্যবহৃত হচ্ছে- যা অপরাধ বৃদ্ধির মূল উৎস। রোহিঙ্গারা অবাধে দেশব্যাপী চলাফেরা করছে, জড়িয়ে পড়ছে মাদক, অস্ত্র ও অপহরণ চক্রে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইউনিসেফ অর্থায়নে পরিচালিত শিক্ষা প্রকল্প থেকে ১১৭৯ জন স্থানীয় শিক্ষক ছাঁটাই। পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করেও সমাধান হয়নি। স্থানীয়রা মনে করছে, এভাবে পরিকল্পিতভাবে তাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের ৮ দফা দাবি- ১️ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে অনতিবিলম্বে দৃশ্যমান পদক্ষেপ। ২️ চাকরি হারানো স্থানীয় শিক্ষকদের পুনর্বহাল। ৩️ ক্যাম্পের বাইরে রোহিঙ্গাদের যাতায়াত ও বাসা ভাড়া বন্ধ। ৪ সীমান্তে কঠোর নিরাপত্তা বলয় ও বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন। ৫ গার্ড ও ক্লিনার ছাড়া অন্য পদে থাকা ৫০ হাজার রোহিঙ্গার চাকরি বাতিল, স্থানীয়দের নিয়োগ। ৬ উখিয়া-টেকনাফকে অগ্রাধিকার দিয়ে নিয়োগে ৫০% কোটা স্থানীয়দের জন্য। ৭ ইউএন/এনজিও বাজেটের ২৫% স্থানীয় উন্নয়নে ব্যয়। ৮ এনজিও/আইএনজিওর মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনমুখী কর্মসূচি গ্রহণ।

মিডিয়া ব্রিফিংয়ে বক্তারা সতর্ক করে বলেন- উল্লিখিত দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে উখিয়া-টেকনাফের সংকট আরও গভীর হবে। এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে। তারা সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা কামনা করেন।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
জনপ্রিয় সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ