বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু ও ঘুমধুম সীমান্তে দিন-রাত কড়া নজরদারি চালাচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তের অস্থির পরিস্থিতি ও পাচারচক্রের সক্রিয় তৎপরতার কারণে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) সাড়ে ২৭ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে টহল ও গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করেছে।
বিজিবির সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে সিমেন্ট, ইউরিয়া সার ও গ্যাস লাইট পাচার হচ্ছে। বিপরীতে মিয়ানমার থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে ইয়াবা ও বিদেশি সিগারেট। পাচার ও অনুপ্রবেশের মাধ্যমে দুই দেশের সীমান্তজুড়ে একটি অবৈধ চক্র সক্রিয় রয়েছে।
সম্প্রতি বিজিবি সীমান্তবর্তী চাকমা ও তঞ্চঙ্গা পাড়া এলাকা থেকে ৮২ জন অনুপ্রবেশকারীকে মিয়ানমারে পুশব্যাক করেছে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী সাধারণ মানুষকে শূন্যরেখায় না যাওয়ার বিষয়ে বারবার সতর্ক করা হচ্ছে। মাইকিং, স্থানীয় সভা এবং প্রত্যক্ষ প্রচারণার মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) এর অধিনায়ক লে. কর্নেল খায়রুল আলম, পিএসসি বলেন,নাইক্ষ্যংছড়ি তুমব্রু-ঘুমধুম সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পাচার রোধে বিজিবি সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোনোভাবেই বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে পণ্য বাইরে যেতে দেওয়া হবে না, আবার মিয়ানমার থেকে ইয়াবা বা অন্যান্য মাদকও যেন ঢুকতে না পারে- সে জন্য সীমান্ত টহল জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত এলাকায় বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে আগের তুলনায় পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে সীমান্তের ভৌগোলিক অবস্থান এবং পাচারকারীদের কৌশলী তৎপরতার কারণে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
সব মিলিয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি তুমব্রু-ঘুমধুম সীমান্ত এখন বিজিবির কঠোর নজরদারির আওতায়। সীমান্তের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিজিবির টহল ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।