শান্তি, সম্প্রীতি ও ধর্মীয় ভক্তি-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপিত হয়েছে।
সোমবার (৬ অক্টোবর) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত উখিয়া উপজেলার পাতাবাড়ি কেন্দ্রীয় আনন্দ ভবন বৌদ্ধ বিহারসহ মোট ৫৩টি বৌদ্ধ বিহারে নানা ধর্মীয় কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উৎসবটি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অনুষ্ঠানটি উখিয়া পাতাবাড়ি কেন্দ্রীয় আনন্দ ভবন বৌদ্ধ বিহারে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কামরুল হাসান চৌধুরী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জিয়াউল হক। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরী, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সাইফুল সিকদার, উখিয়া কেন্দ্রীয় আনন্দ ভবন বৌদ্ধ বিহারের আবাসিক ভিক্ষু ভদন্ত আনন্দ ভিক্ষু, বিহারের সভাপতি আষিন প্রজ্ঞাবৌধি থেরসহ বিভিন্ন বিহারের ভিক্ষু ও হাজারো বৌদ্ধ ভক্তবৃন্দ।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের সূচনা হয় সকাল ৬টায় জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে। এরপর সকাল ৮টায় সমবেত প্রার্থনা, সকাল ১০টায় অষ্টশীল উপবাস পালন, সকাল ১০টায় ভিক্ষু সংঘকে পিণ্ডদান এবং বিকেল ৩টায় ধর্মীয় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।সন্ধ্যায় বিশ্বশান্তি কামনায় হাজার প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও ফানুস উড়ানোর মধ্য দিয়ে প্রবারণা পূর্ণিমা উৎসবের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। উৎসবকালীন সময়ে উখিয়া থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর টহল দল সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে। সারাদিনের সব কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কামরুল হাসান চৌধুরী বলেন, প্রবারণা পূর্ণিমা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। এই দিনটি আত্মশুদ্ধি, দান ও মানবকল্যাণের প্রতীক। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে।
উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জিয়াউল হক বলেন, উৎসব চলাকালে প্রতিটি বৌদ্ধ বিহারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল। দিনব্যাপী সব কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
উৎসব উপলক্ষে উখিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষজন পরস্পরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং ধর্মীয় সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।