কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কঠোরভাবে দুষ্কৃতকারীদের দমন করা হচ্ছে বলে জানান, কক্সবাজার ৮ এপিবিএন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মোঃ কামরান হোসেন। তিনি আরো বলেন, উখিয়া উপজেলায় ৩৬টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মধ্যে দায়িত্বরত ৮ এপিবিএনের আওতাধীন ১১টি ক্যাম্পে -৬৫টি ব্লগ, এবং ৭৭৩টি সাব ব্লগ থেকে প্রতিরাতে ৫ জন করে মোট ৩৮৬৫ জন রোহিঙ্গা ভলেন্টিয়ার আইন-শৃংখলার কাজে নিয়োজিত রয়েছে। নাইট টহল টিম রয়েছে। প্রতিটি ক্যাম্পের ডিউটি এবং ভলান্টিয়ারদের তদারকির জন্য একজন ইন্সপেক্টর/সাব-ইন্সপেক্টর সারারাত নিজে উপস্থিত থেকে তদারকি করেন। এর সাথে পুরো ব্যবস্থাটা তদারকির জন্য একজন এডিশনাল এসপি/এএসপি রাতভর তদারকি করেন। পুরো ব্যবস্থা আবার মনিটর করেন কমান্ডিং অফিসার, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কঠোরভাবে দুষ্কৃতকারীদের দমন করা হচ্ছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৮ এপিবিএনের দায়িত্ব পালনে এক বৎসর পুর্তি উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার ২৬ এপ্রিল ২০২২ খ্রিঃ উখিয়ার রাজাপালংস্থ সদর দপ্তরে ৮ এপিবিএন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সিহাব কায়সার খান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি বলেন, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১ থেকে এপ্রিল ২০২২ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ৭৭৮ জন সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে। মামলা রুজু করা হয় ২৮০ টি। ১৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৯৮২ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট, মদ ১১ লিটার, বিয়ার ৯০ ক্যান ও গাঁজা ৯৪১ গ্রাম জব্দ করে এপিবিএন পুলিশ সদস্যরা।
এছাড়া দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ১২টি, বিদেশি পিস্তল ১ টি গুলি ৪০ রাউন্ড, শটগানের কার্তুজ ৮ রাউন্ড, দেশীয় বিভিন্ন প্রকার দেশীয় তৈরি অস্ত্র ১৯১ টি উদ্ধার করা হয়। স্বর্ণালংকারের মধ্যে ৯১ ভরি ১৫ আনা, বাংলাদেশি নগদ টাকা ৬৫ লক্ষ ১৪ হাজার ও মিয়ানমারের মুদ্রা ৩ লাখ ৩৫ হাজার বাংলাদেশ জাল টাকা ৮১ হাজার টাকা অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়।
এপিবিএন পুলিশ সুপার বলেন, রোহিঙ্গারা বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে শরণার্থী হিসেবে আশ্রিত। বাংলাদেশের আইনবিরোধী কর্মকান্ড লিপ্ত হয়ে ক্যাম্পের পরিস্থিতি অস্থির করা চেষ্টা করলে কঠোরভাবে দমন করা হবে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার ফলে বর্তমানে অপরাধ শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।