কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরের ১৯ নং ক্যাম্প থেকে চাঞ্চল্যকর ৬ বছরের শিশু’কে অপহরণের পর মাটিতে পুঁতে রেখে মুক্তিপণ দাবীর ভিডিও ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।মুক্তিপন দিয়ে ফেরত আসার ৪ দিন পর অপহরণের নায়ক’ দুই অপহরণকারীকে গ্রেফতার করেছে ৮ এপিবিএন পুলিশের সদস্যরা।
সোমবার (২০ জানুয়ারি) বিকেল ৪ টার দিকে উখিয়া থানাধীন কুতুপালং রেজিস্টার ক্যাম্পের এফ ব্লকে ৮ এপিবিএন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আবদুল হাদী এর নেতৃত্বে একটি যৌথ দল ১৪ এপিবিএনে রেজিস্টার্ড ক্যাম্প পুলিশ ও উখিয়া থানা পুলিশের সহযোগিতায় অপহরণে সরাসরি জড়িত দুই অপহরণকারী একই ক্যাম্পের মৃত নুরুল হকের সন্তান নুর ইসলাম (২১) ও মোঃ সালাম (১৯) কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
পুলিশ জানায়, গত ৮ জানুয়ারি বিকেলে ১৯ নম্বর ক্যাম্প থেকে শিশু মোঃ আরাকান (৬) কে ছোলা মুড়ি খাওয়ানোর কথা বলে সিএনজিতে উঠাইয়া নিয়ে যায় আসামী নুর ইসলাম ও মোঃ সালাম ও পলাতক আসামী মোঃ সাদেক এর সহযোগিতায় শিশুকে অপহরণ করে কুতুপালং ক্যাম্পের পার্শ্ববর্তী জায়গায় জঙ্গলে নিয়ে যায়। পরবর্তী সেখানের জঙ্গলে অপহরণকারীরা শিশুকে মাটিতে পুতে রেখে নির্মম নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে ভিকটিমের পিতার কাছে পাঠায় এবং মুক্তিপণ দাবি করে। প্রায় ৭দিন পরে শিশুটি পরিবার পুলিশকে না জানিয়ে মুক্তিপণ আদায় করে এবং অপহরণকারীরা শিশুকে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে সামনে রেখে চলে যায়। এবং স্থানীয় লোকজন শিশুকে তার বাবার কাছে ফিরে দেয়।
আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ৮ (এপিবিএন) ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক খন্দকার ফজলে রাব্বি জানান, অপহৃত শিশুটি ফেরত আসলেও অপহরণকারীদের নির্মম নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়, যা সারাদেশে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। এই ঘটনায় ৮ এপিবিএনের সাইবার অপরাধ অনুসন্ধান বিভাগ এবং ঘোনারপাড়া পুলিশ ক্যাম্পের টিম অপরাধীদের সনাক্ত ও আটক করার প্রক্রিয়া চালিয়ে আজ ৪ টার দিকে কুতুপালং রেজিস্টার ক্যাম্পের এফ ব্লকে ৮ এপিবিএন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আবদুল হাদী এর নেতৃত্বে একটি যৌথ দল ১৪ এপিবিএন ও উখিয়া থানা পুলিশের সহযোগিতায় অপহরণে সরাসরি জড়িত দুই অপহরণকারী আপন দুইভাই নুর ইসলাম (২১) ও মোঃ সালাম(১৯) কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এবং গ্রেফতারের পর শিশু আরকান অভিযুক্ত দুই আসামিকে সনাক্ত করেন।
তিনি আরও জানান, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ৮ এপিবিএনের এই সফল অভিযানের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে উখিয়া থানা মামলা নং-৩৮(০১)২৫, তারিখ:১৮/০১/২০২৫ ইং এর প্রেক্ষিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। উক্ত আসামী ও পলাতক আসামী মোঃ সাদেক কে গ্রেফতারের জন্যে অভিযান অব্যাহত আছে।