কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার চারটি গ্রামের জন্য রয়েছে দীর্ঘ ছয় কিলোমিটার জুড়ে একটি সড়ক। সেই সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কারবিহীন থাকলেও পুননির্মাণের কথা বলে এলজিডি থেকে টেন্ডার নিয়ে আসাদ এন্টারপ্রাইজ সড়কটি খুলে ফেলছিলো গত দুবছর আগে। দুবছর আগে পাকাকরণের কাজ শুরু হলেও এখনও পর্যন্ত রাস্তার কাজের ছিটেফোঁটা করেনি টিকাদার আসাদ।
উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের দোছড়ি, হাজিরপাড়া, মালিয়ারকুল ও চেংখোলা যাওয়ার একমাত্র সড়কটি যখন পাকাকরণের কাজ শুরু হয়েছিল তখন চার এলাকার মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরেছিল। কিন্তু ৫ আগস্টের পর থেকে চলছে লোক দেখানো পুননির্মাণ কাজ। খোঁজ নেই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান আসাদ এন্টারপ্রাইজের সংশ্লিষ্টদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঠিকাদার আসাদ পুননির্মাণের নামে পুরোনো সড়কটি খুলে বালি ও কংক্রিট দিয়ে ফেলে রাখে। দীর্ঘ দুবছর ধরে সড়কে কখনো লোক দেখানো কখনো কাজ বন্ধ থাকায় রাস্তার বালি কংক্রিট সরে সৃষ্টি হয়েছে ছোট বড় গর্তের। ব্রীজও পড়ে রয়েছে খোলা অবস্থায়, তাই ব্যবহার করতে হচ্ছে বিকল্প পথ। বৃষ্টি নামলে কাঁদা আর রোদে ধুলাবালির মধ্য দিয়েই স্টেশনে আসা যাওয়া করছেন ওই চার গ্রামের হাজার হাজার মানুষ।
স্থানীয় গাড়ি চালকরা জানান, প্রতিদিন অন্তত ২-৩ হাজার মানুষের যাতায়াত এই সড়ক দিয়ে। কিন্তু সড়কের যে অবস্থা তাতে গাড়ি চলাচলও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কটি দীর্ঘ দুবছর ধরে খোলা থাকায় সড়কের কিছু অংশে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলে কাঁদা হয়ে চলাফেরার অনুপযোগী হয়ে যায় সড়ক। আর রোদে তো ধুলোবালি নাকে ঢুকে অসুস্থ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। গত কয়েকদিন আগের বৃষ্টিতে রাস্তার বিভিন্ন অংশ ছিড়ে যায়। এই চার এলাকার প্রায় ১৫ হাজার মানুষের চলাচল এখন প্রায় বন্ধ বললেই চলে। কেউ ভিন্ন রাস্তা আর কেউ খাল দিয়ে চলাচল করছে।
এবিষয়ে জানতে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান আসাদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আসাদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করতে চাইলে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
উখিয়ার ছাত্র প্রতিনিধি মোহাম্মদ সোহেল বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন না হলে, এলাকাবাসী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ‘আসাদ এন্টারপ্রাইজ’র বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবে।
উখিয়া উপজেলা প্রকৌশলী রুকনোজ্জামান খান বলেন, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান আসাদ এন্টারপ্রাইজের অনুপস্থিতিতে সড়কের কাজ বন্ধ রয়েছে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, জনদুর্ভোগ কমাতে এলজিইডিকে দ্রুত সড়কের কাজ সম্পন্ন করতে বলে দেয়া হবে।