কক্সবাজারের উখিয়ায় হোস্ট কমিউনিটি ও রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে বাস্তবায়িত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন মার্কিন কংগ্রেসের স্টাফ ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর ১১ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।
মঙ্গলবার (২৭ মে) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দিনব্যাপী এই সফরে প্রতিনিধিরা স্থানীয় উন্নয়ন এবং শরণার্থী ব্যবস্থাপনার অগ্রগতি প্রত্যক্ষ করেন।
প্রতিনিধিদলের সদস্যরা হলেন: পিয়াট (আইন পরিচালক ও প্রধান উপদেষ্টা, সিনেটর ক্রিস মারফি), জেসি জেইন (সিনিয়র বৈদেশিক নীতি উপদেষ্টা, সিনেটর টিম কেন), আউসান আল-ইরিয়ানি (বৈদেশিক নীতি উপদেষ্টা, সিনেটর জেফ মার্কলি), ভেনেসা স্কট (আইন সহকারী, কংগ্রেসম্যান মারিও ডিয়াজ-ব্যালার্ট), প্রজ্ঞা শর্মা (আইন সহকারী, কংগ্রেসম্যান অ্যামি বেরা), মিশেল সিসন (পরিচালক, গ্লোবাল অফিস), মারগট হেক্ট (উপপরিচালক, অংশীদারিত্ব ও যোগাযোগ), ল্যান্স বোনো (প্রধান, আইওএম বাংলাদেশ), নুসরাত গাজ্জালী (উপপ্রধান, আইওএম বাংলাদেশ), ও পিটার কার্ন (প্রধান, সাব-অফিস ও সিনিয়র ইমার্জেন্সি সমন্বয়কারী)।
প্রতিনিধি দল সকাল সাড়ে ১১টায় উখিয়া সদরের ফলিয়াপাড়ায় আইওএমের অর্থায়নে ও ‘প্রত্যাশি’ এনজিওর বাস্তবায়নে পরিচালিত স্যাম্পল অ্যান্ড প্রোডাকশন সেন্টার পরিদর্শনের মাধ্যমে সফর শুরু হয়। এসময় প্রতিনিধিরা স্থানীয় নারীদের অংশগ্রহণে গার্মেন্টস ও পাটজাত পণ্যের উৎপাদন ও বিপণন কার্যক্রম এবং স্কিলস ডেভেলপমেন্ট হাবসহ জীবিকা উন্নয়ন কর্মসূচি ঘুরে দেখেন।
পরবর্তীতে প্রতিনিধি দল ক্যাম্প-২০ এক্সটেনশন এলাকায় যান, যেখানে তারা সংক্রমণ ব্যাধি চিকিৎসাকেন্দ্র, মানসিক স্বাস্থ্য সেবা, এলপিজি গ্যাস বিতরণ কেন্দ্র, পানি ও স্যানিটেশন (ওয়াশ), পরিবেশ এবং গৃহচ্যুতদের উপর প্রভাব বিষয়ক প্রকল্প পরিদর্শন করেন।
পরে তাঁরা ক্যাম্প-৮ ডাব্লিউ তে রোহিঙ্গা সাংস্কৃতিক স্মৃতি কেন্দ্র, অগ্নি প্রতিরোধী নিরাপদ আশ্রয় কর্মসূচি এবং ক্যাম্প-৯ এ বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির খাদ্য বিতরণ ও ইউনিসেফের পুষ্টি সেবা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
আরআরআরসি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সফরের শেষ পর্যায়ে প্রতিনিধিদল রোহিঙ্গা ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (RRRC) সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেন। এসময় প্রতিনিধিদল হোস্ট কমিউনিটি ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে চলমান কার্যক্রম দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।