দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে নারায়ণগঞ্জ থেকে বেড়াতে আসা এক নারী পর্যটকের উপর যৌন হয়রানির চেষ্টা চালিয়েছে একদল বখাটে যুবক। তবে দ্রুতগতিতে ট্যুরিস্ট পুলিশের অভিযানে ওই পাঁচজনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ মে) ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে, লাবণী ও সুগন্ধা পয়েন্টের মধ্যবর্তী এলাকায় সৈকতের নির্জন পরিবেশে ঘুরতে বের হয়েছিলেন সানজিদা আক্তার (২০) নামের এক নারী পর্যটক এবং তার স্বামী। হঠাৎ করেই ৫ জন যুবক তাদের ঘিরে ধরে এবং নানা অজুহাতে কথা বলা শুরু করে। একপর্যায়ে যুবকদের একজন ওই নারীর শরীরে হাত দেওয়ার চেষ্টা করলে সানজিদা চিৎকার করে ওঠেন। সঙ্গে সঙ্গে বাকিরাও ঘিরে ধরে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে।
এসময় সৈকতে টহলে থাকা ট্যুরিস্ট পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ৫ জনকে আটক করে। এছাড়াও তাদের সঙ্গে থাকা দুজন পলাতক রয়েছে সাবিক (১৮) ও ওয়ালিদ (২৫)। তাদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। অভিযুক্তদের সঙ্গে থাকা ৩ ও ৪ বছর বয়সী দুই শিশুকেও পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
আটককৃতরা হলেন, ১. আনোয়ার আক্তার নিহাদ (২৪), রাবারবাগ, নারায়ণগঞ্জ ২. রাবেয়া আক্তার রাব্বি (২৪), সারখালপুর, কক্সবাজার ৩. আকিব (২০), পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম ৪. জিন মিয়া (১৭), পাকুন্দিয়া, কিশোরগঞ্জ ৫. আমিনুল হোসেন (১৮), পাকুন্দিয়া, কিশোরগঞ্জ।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, ঘুরতে বের হয়েছিলাম এমন সময় ৫ জন যুবক এসে আমাদের ঘিরে ধরেশ্লীলতাহানির চেষ্টা করে, তখন আমি চিৎকার করি এসময় সৈকতে টহলে থাকা ট্যুরিস্ট পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ৫ জনকে আটক করে। “আমরা ভাবিনি এত জনপ্রিয় জায়গায় এমন একটা ভয়ানক অভিজ্ঞতা হবে। সৌভাগ্য যে ট্যুরিস্ট পুলিশ সময়মতো এসে আমাদের উদ্ধার করেছে।”
এ বিষয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ আপেল মাহমুদ বলেন, “পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সার্বক্ষণিক টহল ও নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছি। যারা এই ধরণের অপরাধে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সৈকতে পর্যটকদের হয়রানি কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। আটককৃত আসামীদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করে কক্সবাজার সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।