কক্সবাজারে চলমান টানা ভারী বর্ষণে উখিয়া ও টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে দেখা দিয়েছে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি। বজ্রপাত ও গাছপালার ভেঙে পড়ার ঘটনায় উখিয়ায় ৫ জন রোহিঙ্গা গুরুতর আহত এবং টেকনাফে ৪টি ঘর সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রোববার (১ জুন) সন্ধ্যা পৌনে ৮টার দিকে উখিয়ার ওয়ালাপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২০ এর এম-৮ ব্লকে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এতে আনোয়ারা ও সানাউল্লাহ নামের দুই রোহিঙ্গা পরিবারের বসতঘর আক্রান্ত হয় এবং ঘরে থাকা ৫ জন গুরুতর আহত হয়। স্থানীয় রোহিঙ্গারা আহতদের উদ্ধার করে ক্যাম্পসংলগ্ন ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি করেন।
আহতরা হলেন, ২০ নং ক্যাম্পের এম ৮ ব্লকের কালা মিয়ার মেয়ে আনোয়ারা (৪৮), সলিম উল্লাহর ছেলে জিয়াউর রহমান (২০), আয়েশা বিবি (১৪), সানাউল্লাহ (২৭), ও কলিম উল্লাহর মেয়ে হোসনে আরা (২৩)।
অপরদিকে একই দিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে টেকনাফের লেদা ২৪ নং ক্যাম্পে প্রবল বর্ষণের কারণে একটি বড় গাছ উপড়ে গিয়ে চারটি রোহিঙ্গা পরিবারের ঘরের ওপর পড়ে। এতে বসতঘরগুলো সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এই দুর্ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।
ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন: লেদা ২৪ নং ক্যাম্পের এ ৯ ব্লকের ই-২ সাব-ব্লকের নুর সালামের ছেলে মোহাম্মদ ইউনুস, সুলতান আহমদের মেয়ে শাহানা খাতুন ও ভাই মোহাম্মদ ইলিয়াস, নুর মোহাম্মদের ছেলে আজিজুল হক। সহ ক্ষতিগ্রস্তদের ১৬ এপিবিএনের সহায়তায় আন্তর্জাতিক সংস্থা আইওএম ক্ষতিগ্রস্তদের অন্যত্র নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়।
১৬ এপিবিএনের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মো. কাউছার সিকদার জানান, টানা বৃষ্টির ফলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ঝুঁকি বেড়েছে। ক্যাম্প-২০ ও ক্যাম্প-২৪–এ দুইটি আলাদা ঘটনা ঘটেছে। আহতদের দ্রুত চিকিৎসা ও ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর নিশ্চিত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে এবিষয়ে আরআরআরসি কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।