সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০২ পূর্বাহ্ন

  • BengaliEnglishHindi
টেকনাফে অপহৃত সিএনজিসহ ৫ যাত্রী উদ্ধারে দুর্গম পাহাড়ে র‍্যাবের চিরুনি অভিযান
নুরুল ইসলাম বিজয় / ১২১ Time View
Update : সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

কক্সবাজারের টেকনাফের হোয়াইক্যং-শামলাপুর সড়কে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে অপহরণকারী চক্র। গত ৩ জুন (মঙ্গলবার) দুপুরে এ সড়ক থেকে একটি সিএনজি (অটোরিকশা) চালকসহ মোট পাঁচজন যাত্রীকে অপহরণ করে অজ্ঞাতনামা সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

র‍্যাব ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হোয়াইক্যং-শামলাপুর সড়কে চলাচলরত একটি সিএনজি থামিয়ে অস্ত্রের মুখে চালকসহ যাত্রীদের জিম্মি করে পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যায় অপহরণকারীরা। ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগীদের পরিবার এবং স্থানীয়দের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর র‍্যাব-১৫ তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেয়।

পরদিন বুধবার (৪ জুন) সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত র‍্যাব-১৫ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মোঃ কামরুল হাসানের নির্দেশনায় সিপিসি-২ হোয়াইক্যং ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর মো. নাজমুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল অভিযান চালায়।হোয়াইক্যং-শামলাপুর সড়কের পার্শ্ববর্তী দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় চলে এ অভিযানে র‍্যাব সদস্যরা চিরুনি তল্লাশি পরিচালনা করেন। তবে অভিযান চলাকালে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি এবং অপহৃতদেরও উদ্ধার করা যায়নি।

এ বিষয়ে কক্সবাজার র‍্যাব-১৫ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মোঃ কামরুল হাসান বলেন, “ঘটনার পরপরই আমরা তৎপর হয়ে অপারেশন শুরু করেছি। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় চিরুনি অভিযান চালানো হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত অপহৃতদের উদ্ধার করা না গেলেও আমরা অপহরণকারীদের চিহ্নিত করে অতি শিগগিরই অপহৃতদের উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার হবে।

তিনি আরও বলেন, “টেকনাফের পাহাড়ি অঞ্চলগুলোর জঙ্গলে কিছু অপরাধীচক্র সক্রিয় রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি ও অপারেশন একটানা চলছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় এবং তথ্যের ভিত্তিতে আমরা আরো বড় পরিসরে অভিযান পরিচালনা করব।

র‍্যাবের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, সীমান্তবর্তী পাহাড়ি অঞ্চলকে ঘিরে অপহরণ, মাদক পাচার ও অস্ত্র ব্যবসায় জড়িত একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গেও এমন কোনো চক্র জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

অপহরণের শিকার পাঁচজনের পরিবার সদস্যরা প্রিয়জনদের দ্রুত ও নিরাপদে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, হোয়াইক্যং-শামলাপুর সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অপরাধীদের নিরাপদ চলাচল পথ ও আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সড়কের পার্শ্ববর্তী পাহাড় ও জঙ্গলে প্রায়শই অপহরণ, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।

এলাকাবাসীর দাবি, ওই সড়কে স্থায়ী টহল চৌকি ও চেকপোস্ট স্থাপন করলে অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ অনেকটাই কমে আসবে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
জনপ্রিয় সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ