কক্সবাজারের টেকনাফের গহীন পাহাড়ি অরণ্যে অপহরণের শিকার হয়ে দিন গুনছিলেন পাঁচজন নিরীহ মানুষ। চারদিকে পাহাড়, নিস্তব্ধতা আর সশস্ত্র অপহরণকারীদের হুমকিতে যখন জীবন হয়ে উঠেছিল এক বিভীষিকা, তখনই অভিযান শুরু করলো র্যাব-১৫।
বৃহস্পতিবার (৫ জুন) সকাল ৯টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত টানা প্রায় ১২ ঘণ্টার দুঃসাহসিক অভিযানে শেষ পর্যন্ত জীবিত উদ্ধার হলো সিএনজি চালকসহ ৫ অপহৃত। এই অভিযান শুধু একটি উদ্ধার নয়, বরং এক আতঙ্কিত জনপদকে আবারও আশ্বস্ত করার গল্প “অপরাধ যত গভীরেই গড়ে উঠুক, রাষ্ট্র কখনও পিছু হটে না।
র্যাব জানায়, গত (৩ জুন) সকাল ১০টায় শামলাপুর হোয়াইক্যং সড়কের ঢালার মুখে একটি সিএনজি থামিয়ে অস্ত্রের মুখে চালক ও যাত্রীদের তুলে নেয় সশস্ত্র অপহরণকারীরা। চালক শামছুল আলম (৩০) এবং যাত্রীদের নিয়ে অপহরণকারীরা চলে যায় পাহাড়ের ভেতরে। ভিকটিমদের মধ্যে চারজন রোহিঙ্গা শরণার্থী।
ঘটনার পরপরই র্যাব গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও সম্ভাব্য লুকিয়ে থাকা জায়গাগুলো চিহ্নিত করে বৃহস্পতিবার ৫ জুন সকাল ৯টায়, র্যাব-১৫ অধিনায়ক লে. কর্নেল মোঃ কামরুল হাসান এর নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে সিপিসি-২ হোয়াইক্যং ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর মো. নাজমুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল পাহাড়ে অভিযান শুরু করে। অভিযানে ব্যবহৃত হয় ড্রোন, তথ্যপ্রযুক্তি, লোকাল ইন্টেলিজেন্স এবং র্যাবের দক্ষ প্রশিক্ষিত সদস্য। টানা ১২ ঘণ্টার অভিযানে সন্ধ্যা সাড়ে ৮টায় পাহাড়ি অরণ্যের এক গহীন আস্তানা থেকে ভিকটিমদের উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত ভিকটিমরা হলেন, ১. শামছুল আলম (৩০) টেকনাফের বাহারছড়া শীলখালীর নুর মোহাম্মদের ছেলে, ২. আলী জোহার (৪১) উখিয়ার ১৩নং ক্যাম্পের বাসিন্দা, ৩. দিল মোহাম্মদ (৩৩) ও মোঃ রহিম (২৮) ২২নং ক্যাম্পের বাসিন্দা ও মোঃ জুবায়ের (৪০) উখিয়ার ১৪ নং ক্যাম্পের বাসিন্দা।
কক্সবাজার র্যাব-১৫ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মোঃ কামরুল হাসান বলেন- এটি কেবল একটি অভিযান নয়, এটি ছিল মানুষের জীবন রক্ষার লড়াই। আমরা কখনোই জনগণের নিরাপত্তার প্রশ্নে আপস করিনি, করবোও না। অপরাধীরা যত গহীনে লুকাক, র্যাব তত গহীনে ঢুকে উদ্ধার করবে। এটাই আমাদের অঙ্গীকার। তিনি জানান, অপহরণের ঘটনায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও গ্রেপ্তারে আরও অভিযান চলবে।
উদ্ধারের পর এক ভিকটিম বলেন- “আমরা ভাবছিলাম বোধহয় এখানেই আমাদের শেষ। একসময় হঠাৎ মাথার ওপর শব্দ শুনলাম, ড্রোন! তারপর শুনলাম কারও চিৎকার ‘আমরা র্যাব, ভয় নেই।’ তখন বুঝলাম বাঁচা গেছে। র্যাব আমাদের ফিরিয়ে দিয়েছে। কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শেষ করতে পারবো না।