মাদকের ভয়াল ছায়া আবারও ঘনিয়েছে কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোয়। ইয়াবার ভয়াবহ বিস্তার রোধে অভিযান চালিয়ে বিজিবির দুই ব্যাটালিয়ন যৌথভাবে আটক করেছে চারজন চিহ্নিত মাদক কারবারিকে। উদ্ধার করা হয়েছে ৩৯,৮০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং জব্দ করা হয়েছে একটি যাত্রীবাহী সিভিল বাস।
মঙ্গলবার (২৪ জুন ২০২৫) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত টেকনাফ ও উখিয়ার দুটি স্থানে পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অংশ নেয় টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) ও উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)।
টেকনাফে রাত পোহালেই অভিযান, ইয়াবার ছড়াছড়ি টেকনাফ বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সকালবেলা এক ঝটিকা অভিযান চালায় ২ বিজিবি’র একটি টহল দল। এ সময় চৌধুরীপাড়া এলাকা থেকে ৩০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয় দুই যুবককে।
আটককৃতরা হলেন- টেকনাফ চৌধুরী পাড়ার আব্দুল শুক্কুরের ছেলে মোঃ নুরুল ইসলাম (৩০) ও মোঃ আলমের ছেলে মোঃ আয়াস (২৪)। বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, তারা ইয়াবার চালানটি মিয়ানমার সীমান্ত ঘেঁষা এলাকা থেকে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করিয়ে চট্টগ্রাম অভিমুখে পাচারের প্রস্তুতি চলছিল।
অপরদিকে একই দিন সকাল ১০টার দিকে হোয়াইক্যং চেকপোস্টে ৬৪ বিজিবি’র টহল দল একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালায়। তল্লাশির সময় দুই যাত্রীর কাছ থেকে ৯,৮০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা হয় বাসটিও। আটককৃতরা হলেন- টেকনাফ পাল্লান পাড়ার মৃত হাছন আলীর ছেলে শাকের মিয়া (৪২) ও সফি উল্লাহর ছেলে আবদুর রহমান (২০)।

বিষয়টি নিশ্চিত করে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, পিএসসি বলেন, “মাদক কারবারিরা বিভিন্ন কৌশলে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা করলেও বিজিবি সদস্যরা সর্বদা সজাগ রয়েছে। সীমান্ত এলাকাসমূহে টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও চেকপোস্টে তল্লাশি আরও জোরদার করা হয়েছে। মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে বিজিবির এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।