কক্সবাজারের উখিয়ায় র্যাব পরিচয়ে ভয়ঙ্কর অপহরণ চক্রের মূলহোতা ‘সিকদার’ অবশেষে র্যাব-১৫ এর জালে আটক।
গতকাল শুক্রবার (২৭ জুন) সন্ধ্যায় উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী মরাগাছতলা এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজার র্যাব-১৫ এর সিপিসি-২, হোয়াইক্যং ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর মোঃ নাজমুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে এই অপহরণ চক্রের অন্যতম মূল হোতা সিকদার (প্রঃ বলি) আটক করা হয়। তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন এবং একই চক্রের আরও কয়েকজন সদস্য ইতোমধ্যে গ্রেফতার হয়েছে।
র্যাব জানায়, গত ১১ জুন গভীর রাতে ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বসবাসরত মোঃ রহিমুল্লাহর ছেলে হাফিজ উল্লাহ (২২)-কে অস্ত্রধারী তিন সন্ত্রাসী—বরখাস্ত সৈনিক সুমন, রাকিব ও সিকদার—র্যাব পরিচয়ে অপহরণ করে। তারা হাফিজকে গহীন পাহাড়ে নিয়ে যায় এবং তার পরিবারের কাছে পনের লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। একই সঙ্গে জানিয়ে দেয়—প্রশাসনের সাহায্য নিলে ভিকটিমকে হত্যা করা হবে। র্যাব-১৫ তাৎক্ষণিকভাবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালায় এবং ১৪ জুন বরখাস্ত সৈনিক সুমন মুন্সিকে গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্য মতে, ১৫ জুন সকাল ৭টায় র্যাব, বিজিবি, পুলিশ, এপিবিএন ও বনবিভাগের যৌথ অভিযানে রঙ্গিখালির পাহাড়ি এলাকা থেকে অপহৃত হাফিজ উল্লাহকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা হয় অস্ত্র, গুলি ও অপহরণে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি। ঘটনায় র্যাব বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় একটি মামলা দায়ের করে।
র্যাবের ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে র্যাব-১৫ এর হোয়াইক্যং ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মরাগাছতলা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে পলাতক ও চক্রের অন্যতম মূল হোতা সিকদারকে গ্রেফতার করে। আটককৃত আসামি হলেন, উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী মরাগাছতলা এলাকায় আবু’র ছেলে সন্ত্রাসী সিকদার প্রঃ বলি।
এ বিষয়ে র্যাব-১৫ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মোঃ কামরুল হাসান বলেন, “র্যাব পরিচয়ে অপহরণ এবং মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় অভিযুক্ত চক্রের মূলহোতা সিকদারকে আমরা সফলভাবে আটক করেছি। জননিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে র্যাব-১৫ সদা প্রস্তুত। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এই চক্রের অন্যান্য সদস্যদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”
গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।