কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত জাপান দূতাবাসের তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) সকালে এই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ব্যুরোর মহাপরিচালক হিদেও ইশিজুকি। তারা সঙ্গে ছিলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ব্যুরোর উপ-পরিচালক আকিহিতো হোকিগুচি, জাপান দূতাবাসের অর্থনৈতিক সহযোগিতা শাখার প্রধান ও প্রথম সচিব শিনজু কারাসাওয়া।
আরআরআরসি অফিস সুত্রে জানা যায়, তারা সকাল ১০টায় প্রতিনিধি দলটি ক্যাম্প-২ ওয়েস্ট, ক্যাম্প-২ ইস্ট এবং ক্যাম্প-৮ ওয়েস্ট এলাকায় অবস্থিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও এনজিও পরিচালিত কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।
তারা প্রথমে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ( ইউএনএইচসিআর) এর অর্থায়নে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি পরিচালিত এলপিজি গ্যাস বিতরণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেখানে গ্যাস সরবরাহ প্রক্রিয়া এবং ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নেন। এরপরে জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউএনিসেফ) এর অর্থায়নে মুক্তি কক্সবাজার পরিচালিত বর্ণমালা শিশু শিক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেখানে তারা শিশুদের শিক্ষাপদ্ধতি ও পাঠ্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন।
পরে প্রতিনিধি দলটি জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপা) পরিচালিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এরপর তারা বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডাব্লিউএফপি) এর অর্থায়নে কোডেক পরিচালিত ই-ভাউচার খাদ্য বিতরণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন, যেখানে রোহিঙ্গা পরিবারগুলো স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করে থাকেন।
পরবর্তীতে প্রতিনিধি দলটি জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এর অর্থায়নে এনজিও ফোরাম পরিচালিত প্রশিক্ষণ ও উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন, যেখানে রোহিঙ্গা নারীদের হস্তশিল্প ও গার্মেন্টস পণ্য তৈরির কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সবশেষে তারা ক্যাম্প-৮ ওয়েস্ট এলাকায় মাটি ও বাঁশের সমন্বয়ে নির্মিত অগ্নি প্রতিরোধী ঘরসমূহ (শেল্টার) সরেজমিন পরিদর্শন করেন।
দীর্ঘ প্রায় পাঁচ ঘণ্টার এই পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধি দলটি দুপুর আড়াই টায় ক্যাম্প এলাকা ত্যাগ করেন।