কক্সবাজারের উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর খুনসহ ডাকাতির ঘটনায় প্রধান আসামী ও তার সহযোগীকে চারটি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৫।
গত বুধবার (২ জুলাই) রাতে উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের নিদানিয়ায় এলাকায় র্যাব-১৫ এর সিপিসি-২ হোয়াইক্যং ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর মোঃ নাজমুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে চাঞ্চল্যকর খুনসহ ডাকাতির ঘটনায় প্রধান আসামী ও তার সহযোগীকে চারটি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেফতার করা হয়েছে।
র্যাব-১৫ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মোঃ কামরুল হাসান। তিনি আজ বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, গত ২৩ জুন রাত ৮টার দিকে উখিয়ার জালিয়াপালংয়ের নিদানিয়ায় মৃত নুরুল আমিন ও হাছান আলীর বাড়িতে মুখোশধারী ৭/৮ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতদল দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, দা, চাকু ও শাবলসহ সশস্ত্র হামলা চালায়। ডাকাতরা পরিবারের সদস্যদের হাত-পা বেঁধে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ ৯৫,০০০ টাকা, ৩ জোড়া কানের দুল, ২টি নাকফুল ও ১টি স্মার্টফোন লুট করে।
ডাকাতি চলাকালে ভিকটিম নুরুল আমিন ও তার ভাই ডাকাতদের বাধা দিতে গেলে ডাকাতদের নেতা আহমদ শরিফ গুলি চালায়। এতে নুরুল আমিন গুরুতর আহত হন। পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পূর্ব শত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে জানা গেছে। ভিকটিমের স্ত্রী এবং পরিবারের সদস্যরা ডাকাত শরিফকে চিনে ফেলেন এবং পরবর্তীতে থানায় মামলা করেন। ঘটনার পর থেকেই র্যাব তদন্তে নামে। বিভিন্ন স্থানে অভিযানের পর গতকাল রাতে উখিয়া থানার সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামীসহ দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।
আটককৃতরা হলেন, (১নং আসামী) আহমদ শরিফ ওরফে শরিফ্যা ডাকাত (৪২), জালিয়াপালং ইউনিয়নের নিদানিয়া পূর্ব নুরার ডেইল এলাকার ওমর মিয়ার ছেলে। ও অপরজন হলেন রেজাউল করিম ওরফে বাবুল (৩৫), রত্নাপালং ইউনিয়নের পশ্চিম রত্না এলাকার ছৈয়দ আলমের ছেলে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ৪টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, ১ রাউন্ড তাজা গুলি এবং ১টি খালি খোসা।
র্যাব জানায়, এই ঘটনার সাথে জড়িত অন্য ডাকাতদের গ্রেফতার ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে অভিযান চলমান রয়েছে। আটককৃত আসামীদের উখিয়া থানায় স্থানান্তর করা হয়েছে।