টানা বৃষ্টিতে ভেসে গেছে জীবনের স্বস্তি। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ছাউনির নিচে পানি, কাদায় জর্জর পরিবার- ঘরের চার দেয়ালের নিরাপত্তাও আজ অনিশ্চিত। এমন দুর্যোগে জীবন বাঁচাতে ঠাঁই নিতে হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।
শনিবার (৫ জুলাই) সকাল থেকে অবিরাম ভারি বর্ষণে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শালবাগান ২৬ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ই-২ ও ই-৪ ব্লকের ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে। বসবাস অনুপযোগী হয়ে পড়লে বিকল্প আশ্রয়ের খোঁজে বেরিয়ে পড়ে শতাধিক রোহিঙ্গা শরনার্থী। পরে এপিবিএনের সহযোগিতায় ই-২ ব্লকের ১৫টি পরিবারের ৬০ জন রোহিঙ্গা আশ্রয় নেয় কোডেক ব্র্যাক স্কুলে এবং ই-৪ ব্লকের ৯টি পরিবারের ৪২ জন আশ্রয় নেয় স্থানীয় ফোরকানিয়া মাদ্রাসায়। সর্বমোট ২৪টি পরিবারের ১০২ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়।
এ বিষয়ে টেকনাফ ১৬ (এপিবিএন) আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ কাউছার সিকদার বলেন, শালবাগান ক্যাম্পে প্রাকৃতিক দুর্যোগে পানি উঠে যাওয়ায় তাদের জীবন বাঁচাতে আমরা খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছি। এখন পর্যন্ত কোনো পাহাড় ধ্বস বা জানমাল ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ক্যাম্পে পাহাড় ধস বা জলাবদ্ধতার মতো বিপদ এড়াতে সতর্ক পাহারা জোরদার করা হয়েছে। ক্যাম্প ইনচার্জ (CiC) সহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা ক্যাম্পের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রেখেছি এবং যেকোনো সম্ভাব্য বিপদের জন্য প্রস্তুত আছি। রোহিঙ্গারা যেন শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে অবস্থান করতে পারে, সেটি নিশ্চিত করতে ১৬ এপিবিএন সবসময় দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকবে।