টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ দুর্যোগ। পাহাড় ধ্বস, জলাবদ্ধতা আর বসতঘর বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে শত শত রোহিঙ্গা পরিবার।
গতকাল রবিবার সকালে উখিয়ার ১৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। মাটি চাপায় ধ্বসে পড়ে অন্তত তিনটি রোহিঙ্গা পরিবারের সেল্টার। পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়া এই ঘরগুলোতে বসবাসরত পরিবারগুলো মুহূর্তেই গৃহহীন হয়ে পড়ে।যদিও প্রাণহানির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
ঘটনার খবর পেয়ে জরুরি সেবা ও নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যরা কাদামাটি মাড়িয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এদিকে সোমবার (৭ জুলাই) ভোর থেকেই শুরু হয় নতুন দুর্যোগ। উখিয়ার ৩ নম্বর ক্যাম্প ও ৭ নম্বর ক্যাম্পে একটানা বৃষ্টির ফলে পানি ঢুকে পড়ে শতাধিক বসতঘরে। ৩ নম্বর ক্যাম্পের এ/১ ও এ/৩ ব্লকে প্রায় ৭০টি এবং ৭ নম্বর ক্যাম্পের জি/৪ ব্লকে প্রায় ৪০টি ঘর পানির নিচে তলিয়ে যায়। পরিবারগুলো রাতারাতি ঘর ছেড়ে ক্যাম্পের লার্নিং সেন্টার ও আত্মীয়স্বজনদের আশ্রয় নেয়।
এছাড়াও দুপুরে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা গেছে উখিয়ার ২২ নম্বর ক্যাম্পে পাহাড় ধসের পাশাপাশি ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এই ক্যাম্পের এ, বি, সি ও ডি ব্লকে পানিতে তলিয়ে গেছে প্রায় ১৫০টি পরিবার। এছাড়াও ধ্বসে পড়ে পাহাড়ের অংশবিশেষ, আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় আরও ৪টি শেল্টার।
বিষয়টি নিশ্চিত করে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টিতে ক্যাম্পের বিভিন্ন ব্লকে পাহাড় ধ্বস ও জলাবদ্ধতার ঘটনা ঘটেছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছি। প্রতিটি ক্যাম্পে জরুরি টিম কাজ করছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ সেল্টারগুলোর তালিকা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে স্থানান্তরের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্ষা মৌসুমে যাতে বড় কোনো বিপর্যয় না ঘটে, সে জন্য আমরা আগেই প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছি।