কক্সবাজার জেলার পেকুয়া থানার আলোচিত অপহরণ ও মুক্তিপণ মামলার পলাতক ও সন্দেহভাজন দুই আসামি মোঃ রাসেল ও মোঃ বাবুলকে চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৭।
র্যাব-৭ সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম আব্দুল্লাহ আল নোমান গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে ব্যবসায়িক কাজে নিজ বাড়ি থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হন। গভীর রাত পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ায় পরিবার সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করে ব্যর্থ হয়ে ২৪ ফেব্রুয়ারি পেকুয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে।
ঐ রাতেই আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে ভিকটিমের ভাইয়ের মোবাইলে একটি অজ্ঞাত নাম্বার থেকে কল দিয়ে জানানো হয়, নোমান অপহরণকারীদের হেফাজতে রয়েছে এবং তাকে মুক্ত করতে হলে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। পরবর্তীতে পরিবার বিকাশের মাধ্যমে ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করলে ভিকটিমকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
পরে ভিকটিমের বড় ভাই মো. রফিচ বাদী হয়ে ২৫ ফেব্রুয়ারি পেকুয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নম্বর-১৫, ধারা ৩৬৪/৩৬৫/৩৮৬/৩৮৭/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০)। মামলার তদন্তে র্যাব-৭ ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। একপর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে মামলার পলাতক আসামি মো. রাসেল বাকলিয়া থানাধীন বালিরহাট এলাকায় অবস্থান করছে। ১০ জুলাই সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ১১ জুলাই গভীর রাতে গ্রেফতার করা হয় আরেক পলাতক আসামি মো. বাবুলকে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান বলেন, অপহরণ একটি জঘন্য অপরাধ। আমরা প্রথম থেকেই এই মামলাকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চালিয়েছি। প্রযুক্তির সহায়তা এবং গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাব সদা প্রস্তুত।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাকলিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।