বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের আজুখাইয়া পাহাড়ি অঞ্চল থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় মো. ছৈয়দ নুর (৩৬) নামের এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ ও বিজিবির যৌথ দল। নিখোঁজের চারদিন পর পাহাড়ি জঙ্গল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় আটক করা হয়েছে এক রোহিঙ্গাসহ দুইজনকে।
সোমবার (২১ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৫টায় ঘুমধুম তদন্ত কেন্দ্র পুলিশ ফাঁড়ি ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর একটি যৌথ দল স্থানীয়দের সহায়তায় গহীন জঙ্গল থেকে লাশটি উদ্ধার করে। মৃতদেহটি বস্তাবন্দি অবস্থায় ছিল।
উদ্ধারকৃত মো. ছৈয়দ নুর উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের পূর্ব দরগাবিল এলাকার বাসিন্দা। তিনি গত ১৭ জুলাই পাওনা টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে ঘুমধুমে যান এবং এরপর নিখোঁজ হন। ওইদিনই তার পরিবারের কাছে মোবাইলে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরদিন ছৈয়দ নুরের স্ত্রী বিকাশের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা পাঠান। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়, যেখানে মো. ইসমাইল নামের একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার হওয়া মো. ইসমাইল এবং তার এক রোহিঙ্গা সহযোগী ছৈয়দ নুরকে অপহরণ ও হত্যা করে বলে স্বীকার করে। তাদের দেখানো তথ্যের ভিত্তিতেই পাহাড়ি এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
ঘুমধুম তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ জাফর ইকবাল জানান, মুক্তিপণের টাকা নেওয়ার পরও ভিকটিমকে হত্যা করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা তৎপরতায় মূল সন্দেহভাজন ও তার সহযোগীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা হত্যার কথা স্বীকার করে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আজ পাহাড়ি এলাকার গহীনে অভিযান চালিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ধারকৃত লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।