রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৪৮ পূর্বাহ্ন

  • BengaliEnglishHindi
রোহিঙ্গা রেশন গুদামে যৌথবাহিনীর অভিযান, বিপুল চোরাই মাল জব্দ ও আটক ১
নুরুল ইসলাম বিজয়, উখিয়া, কক্সবাজার। / ৩৫১ Time View
Update : রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬

কক্সবাজারের টেকনাফে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে উনচিপ্রাং এলাকায় একটি গোপন গুদাম থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য বরাদ্দকৃত বিপুল পরিমাণ চোরাই রেশন সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। অভিযানে এক রেশন পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে।

সোমবার (২১ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উনচিপ্রাং রইক্ষ্যং এলাকায় একটি বিশেষ যৌথ টহল অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহজনক পিকআপ গাড়ি আটক করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে মোঃ ফারুক (২৭) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে তার দেখানো মতে পাশে থাকা একটি গুদামঘরে তল্লাশি চালিয়ে রোহিঙ্গাদের জন্য বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডাব্লিউএফপি) বরাদ্দকৃত বিপুল পরিমাণ চাল, ডাল, তেল, আটা, চিনি, সাবানসহ বিভিন্ন পণ্য জব্দ করা হয়।

আটককৃত মোঃ ফারুক (২৭), হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উনচিপ্রাং রইক্ষ্যং এলাকার গোলাম কাদেরের ছেলে। তার একটি গুদামঘরে- চাল ২,১৫০ কেজি, আটা ১,৫২০ কেজি, তেল ১৭০ লিটার, পিয়াজ ৩২০ কেজি, চিনি ৭৫০ কেজি, ডাল ৫৫০ কেজি, হলুদ ৬০০ কেজি, সাবান ৭,৫০০ পিস, ১০টি ব্যাটারি ১২ ভোল্ট ৮টি এবং ৬ ভোল্ট ২টি, সেলাই মেশিন ১টি উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৬,৭৫,৯০০ (ছয় লক্ষ পঁচাত্তর হাজার নয়শত) টাকা।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত মোঃ ফারুক জানায়, এই গুদামটি স্থানীয় উনচিপ্রাং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতির প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় পরিচালিত হয়ে আসছিল। টেকনাফ রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২২ এর রেশন ডিলার মনু মাঝিসহ একাধিক রোহিঙ্গা মাঝি নিয়মিতভাবে এই গুদামে রেশন সরবরাহ করত। আরও জানা গেছে, এসব চোরাই রেশন পুনঃপ্যাকেজিং করে স্থানীয় অসাধু ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে বাজারজাত করা হতো এবং একাংশ নদীপথে গভীর রাতে মিয়ানমারে পাচার করা হতো।

অভিযান শেষে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, এই সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে ক্যাম্প থেকে রেশন পাচার করে আসছে। এটা শুধু আইন লঙ্ঘন নয়, বরং মানবিক সহায়তা কর্মসূচিতে বড় ধরনের হস্তক্ষেপ। আটককৃত আসামি এবং জব্দকৃত পণ্য হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়িতে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকার মধ্যে ডব্লিউএফপি-এর রেশন অবৈধভাবে কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত একটি সক্রিয় চক্রের এমন অপকর্ম ক্যাম্পে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আরআরআরসি, এপিবিএন এবং ক্যাম্প ইনচার্জদের নজরের সামনেই চলছে- যা সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন এবং ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
জনপ্রিয় সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ