দেশ মাতৃকার জন্য জীবন উৎসর্গকারী শহীদ মেজর হুমায়ুন কবীর সরকারের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তার নামেই শহীদ হুমায়ুন কবীর মাল্টিপারপাস সেড -এর নামকরণ করল রামু ব্যাটালিয়ন (৩০ বিজিবি)।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই ২০২৫) সকাল ৯টায় এক অনাড়ম্বর আয়োজনে এ নামফলক উন্মোচন করেন প্রধান অতিথি কক্সবাজার রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকসার খান, এনডিসি, পিএসসি, পিএইচডি।
২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় সংঘটিত বিদ্রোহে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বহু কর্মকর্তা শহীদ হন। তাঁদেরই একজন, তৎকালীন মেজর হুমায়ুন কবীর সরকার—দেশপ্রেম, কর্তব্যপরায়ণতা ও আত্মত্যাগের অনন্য প্রতীক। বিজিবির মাল্টিপারপাস সেডের এই নামকরণ শুধু স্মৃতিচারণ নয়, বরং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সাহস ও বীরত্বের অনুপ্রেরণা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়াস।
অনুষ্ঠানে শহীদের পরিবারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র ক্যাপ্টেন (অবঃ) সাদাফ আবরার রাইয়ান। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোঃ মহিউদ্দীন আহমেদ, পিবিজিএম, বিজিবিএমএস, এসি, এবং আয়োজক রামু ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল কাজী মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, ইঞ্জিনিয়ার্স।
এছাড়াও রামু সেক্টর ও ব্যাটালিয়নের সকল অফিসার, জুনিয়র কর্মকর্তা এবং অন্যান্য পদবীর বিপুল সংখ্যক বিজিবি সদস্যবৃন্দ উপস্থিত থেকে এই শ্রদ্ধাঞ্জলিমূলক আয়োজনে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রামু ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল কাজী মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন- আমরা চাই, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শহীদদের আত্মত্যাগকে জানুক, বুঝুক এবং তাঁদের মতো আদর্শবান হয়ে উঠুক। শহীদ মেজর হুমায়ুন কবীর সরকারের নামে এ সেডের নামকরণ সেই দায়িত্ববোধ থেকেই। বিজিবির প্রতিটি সদস্য যেন তাঁর আত্মত্যাগ থেকে প্রেরণা নিয়ে নিজেদের দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকে, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।
বিজিবি সূত্র জানায়, ভবিষ্যতে শহীদদের সম্মান রক্ষায় আরও নানা উদ্যোগ নেওয়া হবে।