বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকালে এক মিয়ানমার নাগরিক (আরাকান আর্মি সহযোগী) ও এক বাংলাদেশী উপজাতি নাগরিককে আটক করেছে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক তৎপরতা ও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
রবিবার (১৭ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন ৩৪ বিজিবির অধীনস্থ তুমব্রু বিওপির দায়িত্বপূর্ণ মিয়ানমার সীমান্ত পিলার-৩৪ থেকে প্রায় ৩০০ মিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পশ্চিমকুল এলাকায় টহলরত বিজিবি সদস্যরা সন্দেহভাজনভাবে চলাফেরা করা দুইজনকে চিহ্নিত করে। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে পরিচয় পাওয়া যায় এবং অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন, মিয়ানমার নাগরিক ওলাই চাকমা (২৪)। তিনি মংডু জেলার মেদাইক গ্রামের বাসিন্দা এবং উচলা চাকমার পুত্র। বিজিবির প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তিনি মায়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি’র সহযোগী হিসেবে পরিচিত। অপরদিকে আটক বাংলাদেশী নাগরিক নয়ন চাকমা (৩০)। তিনি রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার বেদবেদি গ্রামের বাসিন্দা জ্ঞ্যানরঞ্জন চাকমার পুত্র। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আটককৃত মিয়ানমার নাগরিককে সীমান্ত অতিক্রমে সহযোগিতা করেছেন।
বিজিবি জানায়, আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ চলছে। অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক তাদের পুলিশ হেফাজতে সোপর্দের প্রক্রিয়া চলছে।
এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল এস এম খায়রুল আলম, পিএসসি বলেন,অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের দায়ে একজন মিয়ানমার নাগরিক (আরাকান আর্মির সহযোগী) ও একজন বাংলাদেশী উপজাতি নাগরিককে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত থেকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে আমাদের টহল দল। সীমান্ত এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, অপরাধ দমন, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির টহল ও অভিযান সবসময় চলমান থাকবে। জনগণের নিরাপত্তা ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে প্রায়ই অনুপ্রবেশের চেষ্টা হয়। বিশেষ করে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা এই সীমান্ত ব্যবহার করে অনুপ্রবেশ ও চলাচল করে থাকে। এ কারণে সীমান্ত এলাকায় বিজিবি টহল জোরদার করা হয়েছে।