কক্সবাজারের উখিয়ায় চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে চলমান আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, রাজাপালং ইউনিয়ন (সাংগঠনিক) উত্তর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুদ্দিন ইসলাম শামীমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে উপজেলা ছাত্রদল।
গত সোমবার (১৮ আগস্ট) উখিয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক জয়নুল আবেদীন জয় এবং সদস্য সচিব রিদুয়ানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

নোটিশে বলা হয়, সাংগঠনিক অনুমতি ছাড়া শিক্ষকদের আন্দোলনে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে শামীম দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন। কেন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না-তা আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে। অন্যথায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কারণ দর্শানো নোটিশ প্রসঙ্গে ছাত্রদল নেতা সাইফুদ্দিন ইসলাম শামীম বলেন,গতকাল থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভুল ধারণা ছড়াচ্ছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হোস্ট টিচারদের আন্দোলন সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক এবং যৌক্তিক। এটি কেবল চাকরি ফিরিয়ে আনার দাবিতে শুরু হয়েছে। আমি ছাত্রদলের একজন ইউনিয়ন নেতা হলেও আন্দোলনের সময় কখনো রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করিনি, এবং কেউ প্রমাণও দিতে পারবে না।
তিনি আরও বলেন,যে নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তা দলের পক্ষ থেকে শোকজের প্রক্রিয়া মাত্র। বিভিন্ন প্রশাসনিক ও গোয়েন্দা সংস্থা বিএনপিকে রিপোর্ট করেছে যে আমি ছাত্রদল কর্মী হওয়ায় আন্দোলনটি বিএনপির নির্দেশে হচ্ছে। বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্যই দল আমাকে নোটিশ দিয়েছে। তাই এটিকে অতিরিক্ত সিরিয়াসভাবে না নেওয়ার অনুরোধ করছি।
শামীম জানান, আন্দোলনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নিয়েছেন। তার ভাষায়,আমাদের আন্দোলনে দলমত নির্বিশেষে সকলে যুক্ত হয়েছে- জামায়াত, শিবির, এনসিপি, বিএনপি, ছাত্র অধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠনের কর্মীরা অংশ নিচ্ছে। নেতৃত্বে আমি থাকলেও এটি সম্পূর্ণ যৌথ উদ্যোগ।
দলের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন,দল যদি মনে করে আমি শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছি, আমি লিখিত ব্যাখ্যা দিয়ে বিষয়টি পরিষ্কার করব। দলের সিদ্ধান্তকে আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে মেনে নিচ্ছি। অনুরোধ, কেউ বিভ্রান্ত হবেন না- দল তাদের কাজ করুক, আমরা আমাদের কাজ।
সম্প্রতি কক্সবাজারের উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত স্থানীয় শিক্ষকদের চাকরি থেকে বাদ দেওয়ায় তারা আন্দোলনে নেমেছেন। কোটবাজার এলাকায় সড়ক অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। আন্দোলনকারীরা দাবি করেছেন, এটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক এবং তাদের একমাত্র লক্ষ্য চাকরিতে পুনর্বহাল হওয়া।