কক্সবাজারের উখিয়া থানার মূল ফটকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন চাকরিচ্যুত শিক্ষকরা। সেখানে ওসি প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিচ্ছেন তারা। বুধবার দুপুর ১টা থেকে শিক্ষকদের কর্মসূচি শুরু হয়।
এর আগে সকালে উপজেলার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের প্রবেশমুখে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন চাকরিচ্যুত শিক্ষকরা। সেখানে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিচার্জে নারীসহ তিনজন আহত হয়। এ সময় ছাত্র প্রতিনিধি জুলাইযোদ্ধা জিনিয়া শারমিনসহ ২০ জনকে হেফাজতে নেওয়া হয়। উপজেলা সদর, কোটবাজার, কুতুপালং ও হাসপাতাল গেইট এলাকা থেকে তাদের হেফাজতে নেয় পুলিশ।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বিভিন্ন এনজিও থেকে চাকরিচ্যুত শিক্ষকরা পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শান্তিপূর্ণভাবে সড়কের এক পাশে অবস্থান করছিলেন। এমন সময় পুলিশ তাদের উপর লাঠিচার্জ করে এবং ২০ জনকে হেফাজতে নেয়। তাদের মধ্যে একজন নারী শিক্ষক গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে, সেখানে দেখতে গেলে ছাত্র প্রতিনিধি জিনিয়া আরও কয়েকজনকে নিয়ে আসেন, তখন আবারও পুলিশ সেখানে হস্তক্ষেপ করে।
এরআগে সোমবারও সারাদিন সড়ক অবরোধ করেন চাকরিচ্যুত শিক্ষকরা। মঙ্গলবার আন্দোলন সাময়িক স্থগিত থাকলেও বুধবার ফের ক্যাম্প এলাকার প্রবেশমুখে এনজিও সংস্থার যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
আন্দোলনকারীরা উখিয়া থানা গেইটে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে এসময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এক পর্যায়ে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে, বিকেলে উখিয়া থানার কনফারেন্স রুমে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আগামী ২৬ আগস্ট পর্যন্ত নতুন কোনো কর্মসূচি না দেওয়ার শর্তে আটককৃত ২৭ জন শিক্ষককে মুসলেকা স্বাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব সুজা উদ্দিন সুজা, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সরোয়ার জাহান চৌধুরী, সদস্য সচিব সুলতান মাহমুদ চৌধুরী ও উপজেলা জামায়াতের আমীরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।