বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করতে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন ক্যাম্পে পরিদর্শন করেছেন বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশনের কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা।
মঙ্গলবার (২৬ আগষ্ট) সকাল ১০টার দিকে প্রতিনিধি দল মধুরছড়া চেকপোস্টে পৌঁছালে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে অভ্যর্থনা জানায়। পরে তারা দুটি দলে বিভক্ত হয়ে (টিম এ এবং টিম বি) শিবিরের বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।
এ টিমের সদস্যরা হলেন, নয়াদিল্লি ফিনল্যান্ড দূতাবাসের সেকেন্ড সেক্রেটারি আইরিস মাত্তা, ঢাকা রাশিয়ান ফেডারেশন দূতাবাসের কাউন্সেলর অ্যান্টন চেরনভ, জাতিসংঘ মিয়ানমার তদন্তকারী সংস্থা বিশেষজ্ঞ কনসালট্যান্ট সাহারিন শাউন, ঢাকা রয়্যাল থাই এম্ব্যাসি কর্মকর্তা সিওয়াপল কিত্তিওংসাকুল, বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মহাপরিচালক শাহ আসিফ রহমান, কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স প্রেসিডেন্ট আবু মুর্শেদ চৌধুরী, আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল কাউন্সিল আবুল কালাম, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. রাজেশ নারওয়াল, Myanmar Now সম্পাদক সু মিয়াত মন, ঢাকা ইন্দোনেশিয়া দূতাবাস চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স এ.আই আরিফ সুয়োকো, পাইয়াপ বিশ্ববিদ্যালয় (চিয়াং মাই) শিক্ষক মন মন মিয়াত, ঢাকা ইন্দোনেশিয়া দূতাবাস ডিফেন্স অ্যাটাশে ইমাম সেতিওয়ান, ঢাকা ইন্দোনেশিয়া দূতাবাস রাজনৈতিক কর্মকর্তা নূর হামামুর রিজকি, বাংলাদেশ লিবিয়া দূতাবাস চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স আব্দালফাত্তাহ খিত্রেশ, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল সোনা শ্রেষ্ঠা, মুক্তি কক্সবাজার প্রধান নির্বাহী বিমল সরকার, আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল কাউন্সিল সহ-সভাপতি নাই সান লউইন, আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল কাউন্সিল সদস্য খাইরুল আমিন, শান্তি ও ন্যায়ের জন্য শরণার্থী নারী (আরডব্লিউপিজে) সদস্য লাকি করিম, ফোর্টিফাই রাইটস প্রতিনিধি জন কুইনলি, বাংলাদেশ আইএফআরসি (আন্তর্জাতিক রেডক্রস) প্রধান আলবার্তো ভিডাল প্রমুখ।
এ টিমের প্রতিনিধিরা সকালে ক্যাম্প-০৪ এর এ/১১ ব্লকের ই-ভাউচার শপ পরিদর্শন। এখানে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) কর্মকর্তারা আধুনিক খাদ্য বিতরণ প্রক্রিয়া তুলে ধরেন।এবং ক্যাম্প-০৪ এক্সটেনশনের সি/০১ ব্লকে প্রোডাকশন সেন্টার ও লিভলিহুড স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার ঘুরে দেখা।
তারা এনজিও ফোরাম ও সিএনআরএস কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত ব্রিফিং দেন।পরে বালুখালি ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল পরিদর্শন। ফ্রেন্ডশিপ এনজিওর কর্মকর্তারা হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম এবং সুবিধাভোগীদের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন।দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ টিম কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
অপরদিকে বি টিমের সদস্যরা হলেন, মিজিমা মিডিয়া গ্রুপ সাংবাদিক অং নিউই লউইন, মিয়ানমার স্থানীয় প্রজেক্ট ম্যানেজার সো সো হটুন, ঢাকা রয়্যাল থাই এম্ব্যাসি চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স সোপাওয়াদি ওংসাওয়াসদি, পালস বাংলাদেশ সোসাইটি প্রধান নির্বাহী সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, বাংলাদেশ বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডাব্লিউএফপি) কান্ট্রি ডিরেক্টর ডোমেনিকো স্কালপেলি, ইউএনওপিএস কর্মকর্তা শিরিন সুলতানা, বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মহাপরিচালক ফরহাদুল ইসলাম, আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল কাউন্সিল প্রতিনিধি শামসুল আলম সান ইউ, বাংলাদেশ কনস্যুলেট (সিত্তে, মিয়ানমার) কনসাল ও হেড অব মিশন জাকির আহমেদ, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের মিনিস্টার ফরিদা ইয়াসমিন, (নিউইয়র্ক)মালয়েশিয়া অ্যাডভাইজরি গ্রুপ অন মিয়ানমার / আসিয়ান স্পেশাল এনভয়ের উপদেষ্টা লিলিয়ান ফ্যান, আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল কাউন্সিল নাসির জাকারিয়া, স্টুডেন্ট ইউনিয়ন ফর রোহিঙ্গা ডেভেলপমেন্ট মহাপরিচালক ফরিদ আলম, ইউএনডিপি সাব অফিস প্রধান ভার্ডন হোচা, আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল কাউন্সিল সদস্য মং নু, ডিডাব্লিউ একাডেমি প্রজেক্ট ম্যানেজার থমাস বেয়ারথলাইন, আরাকান রোহিঙ্গা ইউনিয়ন মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন প্রমুখ।
বি টিমের প্রতিনিধিরা সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে বালুখালি ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল পরিদর্শন ও ব্রিফিং গ্রহণ।এবং ক্যাম্প-০৪ এর এ/১১ ব্লকে অবস্থিত ই-ভাউচার শপ ঘুরে দেখা।পরে ক্যাম্প-০৪ এক্সটেনশনের সি/০১ ব্লকের প্রোডাকশন সেন্টার ও লিভলিহুড স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার পরিদর্শন।পরিদর্শন শেষে দুপুর পৌনে ১টার দিকে বি টিম কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপত্তায় নিয়োজিত ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ সিরাজ আমীন বলেন, প্রতিনিধি দলগুলোর সফরকালে সার্বক্ষণিক পুলিশ প্রটোকল নিশ্চিত করা হয়। পুরো সময় কোনো ধরনের অপ্রতিকার ঘটনা ঘটেনি।
শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, তারা বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প সরেজমিনে দেখে আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি ও কূটনীতিকরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এই উচ্চপর্যায়ের পরিদর্শন রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ সরকারের মানবিক উদ্যোগ সম্পর্কে বৈশ্বিক সমর্থন জোরদার করবে।