কক্সবাজারে র্যাবের সুপরিকল্পিত অভিযান চালিয়ে তিন অপহরণকারীকে গ্রেফতার করেছে। এ অভিযান ও তদন্তে সুজন চাকমা হত্যার রহস্য উদঘাটিত হয়েছে এবং অপহরণের কাজে ব্যবহৃত অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করে র্যাবের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ কামরুল হাসান জানান, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নির্জন স্থানে মানুষকে আটক ও নির্যাতন করত। তারা ভিকটিমদের পরিবারের কাছে ছয় লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করত।
ঘটনার বর্ণনা অনুযায়ী, ভিকটিম সুজন চাকমা রাঙ্গামাটির নিজ বাড়ি থেকে চাকরি পাওয়ার আশায় টেকনাফে আসে। সেখানে তাকে অপহরণকারীরা আটক করে মারধর করে এবং পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে। পরিবারের অর্থ দিতে না পারায় অপহরণকারীরা তার ওপর শারীরিক নির্যাতন বাড়ায়। অবশেষে ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ সুজন চাকমা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
র্যাব-১৫ অভিযানে গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মোঃ ইয়াছিন, মোঃ ইয়াছিন প্রঃ কালু ও সাহাব উদ্দিন। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সুইচ গিয়ার চাকু, লাঠি, লোহার রড, ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা এবং ভিকটিমের মোবাইল উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছে, তাদের চক্রের মূলহোতা আয়াত উল্লাহ এখনও পলাতক।
লেঃ কর্নেল কামরুল হাসান সাংবাদিকদের প্রতি সতর্ক করে বলেন, অনলাইনে চাকরির প্রলোভন বা অপরিচিত নম্বর থেকে প্রাপ্ত প্রস্তাবে পা দেবেন না। সচেতন থাকুন, নিরাপদ থাকুন। র্যাব অভিযান অব্যাহত রেখেছে এবং অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।