কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে সাগর পথে মানব পাচারের চেষ্টাকালে পাচারকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান, পিএসসি, জানান, গত বুধবার গভীর রাতে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) কর্তৃক পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
বিজিবি জানায়, মিয়ানমার সীমান্ত ঘেঁষে টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ ও আশপাশের এলাকায় সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে মানব পাচার ও মাদক চোরাচালানে সক্রিয় ছিল। স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি হওয়ায় চক্রটিকে দমনে বিজিবি দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা নজরদারি চালিয়ে আসছিল। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে পাচারকারী দলের পাঁচ সদস্য হাতেনাতে ধরা পড়ে।
আটককৃতরা হলো- টেকনাফ উপজেলার দক্ষিণ লম্বরি গ্রামের এখলাছ মিয়ার ছেলে সৈয়দ আলম (২৯), ইয়াহিয়ার ছেলে মোঃ আব্দুল্লাহ (২২), ইউনুস আলীর ছেলে মোঃ রিদুয়ান হোসেন (২০), কেফায়েত উল্লাহর ছেলে মোঃ নুরুল আফসার (২০), মৃত দিল মোহাম্মদের ছেলে মোঃ আঃ হাকিম (৪০), এছাড়া চারজন পাচারকারী সদস্য পলাতক রয়েছে।
চলতি বছরে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অভিযানে এখন পর্যন্ত মানব পাচারকারী চক্রের ৪৭ জনকে আটক করা হয়েছে এবং আরও ২১ জন এখনও পলাতক। পাচারকারী চক্রের মূল হোতাদের ধরতে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান, পিএসসি বলেন- “মানবতা ও দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে সীমান্তে মানব পাচার, মাদক চোরাচালানসহ যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে বিজিবির জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে। পাচারকারী চক্রের মূল হোতাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।”
আটককৃত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।