কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত নিরাপত্তা ও মানব পাচার রোধে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (২ বিজিবি) বিশেষ অভিযানে ১২ জন মানব পাচারকারী আটক করা হয়েছে। অভিযানটি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও অপরাধ দমনে বিজিবির দৃঢ় অবস্থানের প্রমাণ বলে জানানো হয়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, মানব পাচার চক্রগুলো দীর্ঘদিন ধরে গভীর সাগর ও পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি এলাকায় সক্রিয় ছিল। পাচারকারীরা বিভিন্ন প্রলোভনের মাধ্যমে স্থানীয় ও মায়ানমারের নাগরিকদের মালয়েশিয়া প্রেরণ করত।
ভুক্তভোগীদের পাহাড়ি এলাকা বা গোপন আস্তানায় নিয়ে মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া হতো, খাদ্য সরবরাহ অনিয়মিত হতো এবং বড় অঙ্কের মুক্তিপণ আদায় করা হতো।
টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল আশিকুর রহমান জানান, গোপন তথ্য ও দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে আমাদের অভিযানগুলোতে জুলাই মাসে ১৫ জন, আগস্টে ৪ জন এবং সেপ্টেম্বর মাসে ১৭ জন মানব পাচারকারী আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে আরও ১২ জনকে আটক করা হয়।
ধৃত মানব পাচারকারীদের মধ্যে রয়েছেন মোঃ আব্দুর রশিদ (৩৫), মোঃ মিজানুর রহমান (২০), মোঃ আবু তৈয়ব (২৫), মোঃ ইদ্রিস (৩৫), জাহেদ (১৮), মোঃ জুবায়ের (৩৩), নরুল আবছার (১৮), মোঃ ইসমাইল (৩২), মোঃ ইমরান (২৮), নুর মোহাম্মদ (৪০), মাহমুদউল্লাহ (৩০) এবং খুরশিদা বেগম (৩৪)। তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। এছাড়া ২৪ জন পাচারকারী এখনও পলাতক রয়েছেন।
বিজিবি জানায়, আটককৃত ভুক্তভোগীদের মধ্যে ১১ জনকে তাদের আত্মীয়দের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ভবিষ্যতে পলাতক আসামিদের ধরার জন্য আরও অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
লেঃ কর্নেল আশিকুর রহমান বলেন, মানবতা এবং দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে সীমান্তে যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, মাদক ও মানব পাচারের বিরুদ্ধে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রাখবে।