বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় মাদক ও মানব পাচার রোধে দৃঢ় ভূমিকা পালন করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)।
শনিবার (৪ অক্টোবর ২০২৫) টেকনাফ শাহপরীরদ্বীপের মিস্ত্রিপাড়া এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান, পিএসসি এর নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান চালিয়ে মানব পাচার চক্রের ৬ সদস্যকে হাতেনাতে আটক করেছে।
বিজিবি জানায়, খবর পেয়ে পাচারচক্রের দুইজন সদস্য পালিয়ে গেলেও, বাড়ির মালিক মোছাঃ শামসুন্নাহারসহ ৬ জনকে আটক করা সম্ভব হয়। অভিযানে উদ্ধারকৃতদের বাড়িতে মিয়ানমার থেকে আসা কয়েকজন বিদেশি নাগরিককে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে বিজিবি।
আটককৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে, তারা অর্থের বিনিময়ে লোকজনকে পাচার করে বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সরিয়ে নিত এবং FDMN কার্ড তৈরির মাধ্যমে আরও অর্থ উপার্জন করত।
আটককৃতরা হলেন- টেকনাফ সাবরাং ইউনিয়নের মিস্ত্রীপাড়ার বাসিন্দা প্রবাসী মোহাম্মদ আখের’র স্ত্রী মোছাঃ শামসুন্নাহার (৩৫), টেকনাফ ২৬ নং শালবাগান ক্যাম্পের বাসিন্দা মৃত সৈয়দ আকবরের স্ত্রী নুরুন্নিসা (৪৯), একেই ক্যাম্পের সৈয়দ আহমেদের ছেলে ইউসুফ আলী (৪৭), অন্যরা হলেন, উখিয়ার ২০নং ক্যাম্পের বাসিন্দা মৃত জালালের স্ত্রী হোসনে আরা (৩১), একেই এলাকার মৃত আবুল হাসেমের ছেলে মোহাম্মদ ইসমাইল (৫০), ও উখিয়ার জামতলী ১৫ নং ক্যাম্পের আবু সামাদের ছেলে হারুন (৩৫)।এছাড়াও পলাতক কালু মিয়া (৩৫), ও হাশেম মোল্লা (২৫) এবং অজ্ঞাত আরও দুইজন পলাতক রয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান, পিএসসি বলেন, বিজিবি সবসময় মানব পাচার ও মাদক বাণিজ্যের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে। আজকের অভিযানে আমাদের টহল দল বিশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে ৬ জন পাচারকারীকে হাতেনাতে আটক করেছে। দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সীমান্ত সুরক্ষায় এই ধরনের সাহসী ও কার্যকরী অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
আটককৃতরা বর্তমানে স্থানীয় থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।