কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় আলোচিত ইয়াবা কারবারি মনির হোসেন প্রঃ ইয়াবা ডন মনির কে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর ২০২৫) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তাকে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী ফুটবল খেলার মাঠ থেকে গ্রেফতার করা হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, বালুখালী বিওপি থেকে আনুমানিক ২ কিমি দক্ষিণ এবং বিআরএম ২০ থেকে আনুমানিক ১ কিমি পশ্চিমে, সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ৬৪ বিজিবির বালুখালী বিওপির সুবেদার শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে বিশেষ টহল দল মনিরকে আটক করেন। আটকের সময় তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তাকে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মনির হোসেন স্বীকার করেছেন, তিনি ইয়াবা পাচার ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা ও মাদক সংক্রান্ত ওয়ারেন্ট রয়েছে। এছাড়া উখিয়া থানার আলোচিত শাহজাহান হত্যা মামলার প্রধান আসামি তিনি। উল্লেখ্য, তিনি কয়েকটি মামলায় জামিনে থাকলেও, গত বছরের নভেম্বর মাসে দায়ের করা ৯৬০০ পিস ইয়াবা মামলার ওয়ারেন্টভূক্ত আসামি।
এদিকে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, মনির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকায় ইয়াবা ও স্বর্ণ পাচারে সক্রিয় ছিলেন। তিনি ২০১৯ সালে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ইয়াবা ডন মোস্তাক ও মোক্তারের ছোট ভাই। সরকারি চাকরির আড়ালে মিয়ানমারের কুখ্যাত মাদক ও স্বর্ণ কারবারি রোহিঙ্গা নবী হোসেনের সঙ্গে যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা পাচার চালিয়ে আসছিলেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ৬৪ বিজিবি অধিনায়ক লেঃ কর্নেল জসীম উদ্দিন বলেন, সীমান্তে মাদক ও অপরাধ দমন আমাদের অঙ্গীকার। ইতিপূর্বে আমাদের হাতে অনেক ইয়াবা চোরাকারবারী ধরা পড়লেও, তাদের পেছনের গডফাদাররা পর্দার আড়ালে থাকে। আমরা গডফাদারদের চিহ্নিত করছি এবং ধরার অভিযান অব্যাহত রাখব।
রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোঃ মহিউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, জাতীয় স্বার্থে সীমান্তে অপরাধীচক্র যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে বিজিবি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিজিবির এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।