সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২৩ পূর্বাহ্ন

  • BengaliEnglishHindi
টেকনাফ পাহাড়ে বিজিবির অভিযানে ৬ জিম্মিসহ বিপুল অস্ত্র উদ্ধার, পাচারকারী আটক
নুরুল ইসলাম বিজয়, উখিয়া, কক্সবাজার। / ১৬৫ Time View
Update : সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
টেকনাফ পাহাড়ে বিজিবির অভিযানে ৬ জিম্মিসহ বিপুল অস্ত্র উদ্ধার, পাচারকারী আটক

কক্সবাজারের টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ে পাচারকারীদের সুরক্ষিত ডেরায় পরিচালিত এক দুঃসাহসিক অভিযানে ‘বজ্র’ হানা দিয়ে পাচারকারীদের মৃত্যুফাঁদ ভেঙে ৬ জন জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করেছে বিজিবি। একই সঙ্গে আটক করা হয়েছে এক পাচারকারী এবং উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর ২০২৫) ভোররাতে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অর্ধশতাধিক সদস্যের একটি বিশেষ আভিযানিক দল অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান’র নেতৃত্বে রাজারছড়া করাচীপাড়া এলাকার গহীন পাহাড়ে অভিযান পরিচালনা করে। পাচারকারীরা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে সদস্যরা চারদিক থেকে পাহাড় ঘিরে ফেলে এবং সুচারুভাবে ঘেরাও অভিযান পরিচালনা করে।

টানা ছয় ঘণ্টা চলা এ রুদ্ধশ্বাস অভিযানে বিজিবির সদস্যরা পাহাড়ের দুর্গম গিরিপথ অতিক্রম করে এক পাচারকারীকে আটক ও পাচারকারীদের হাতে বন্দি ৬ নিরীহ ভুক্তভোগীকে জীবিত উদ্ধার করে। এ সময় পাচারকারীদের গোপন আস্তানা থেকে উদ্ধার করা হয়- ০৩টি ওয়ান শুটার গান, ০১টি একনলা বন্দুক, ০৫ রাউন্ড তাজা গুলি (ওয়ান শুটার গানের), ০১ রাউন্ড তাজা গুলি (একনলা বন্দুকের) এবং ০২টি দেশীয় চাকু।

বিজিবি জানায়, উদ্ধারকৃত ভুক্তভোগীরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন- মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে দালালচক্রের সদস্যরা তাদেরকে টেকনাফে নিয়ে আসে এবং মাথাপিছু প্রায় ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে পাচারকারীদের কাছে বিক্রি করে দেয়। এরপর গত এক সপ্তাহ ধরে পাচারকারীরা সশস্ত্র প্রহরায় পাহাড়ে আটকে রেখে ভয়ংকর নির্যাতন চালায় ও মুক্তিপণ দাবি করে।

আটককৃত পাচারকারী হলেন, মোঃ রুবেল (২১), টেকনাফের মিঠাপানিরছড়ার করাচীপাড়া লেঙ্গুরবিলের বাসিন্দা মোঃ হোছন ও আনোয়ারা বেগমের ছেলে। পলাতক পাচারকারীরা হলেন, আব্দুল্লাহ (২৬), রিয়াজ (৩০), মোঃ হোছন (৪৬), আনোয়ারা বেগম (৪০), রায়হান (২৪), জয়নাল (২৪), আব্দুল্লাহ (২৫) এবং সিরাজ (২৬)। সকলের টেকনাফের লেঙ্গুরবিলের করাচীপাড়া ও বড়ইতলি এলাকার বাসিন্দা।

অভিযানে উদ্ধারকৃত জিম্মি, আটক পাচারকারী ও উদ্ধারকৃত অস্ত্র-গোলাবারুদ আইনানুগ প্রক্রিয়ায় টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম চলছে।

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অভিযান মানব পাচারচক্রের বিরুদ্ধে একটি দৃষ্টান্তমূলক সাফল্য। সীমান্তে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে বিজিবি ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।

বিজিবির টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান, পিএসসি বলেন, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো পাচারকারীকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। এই অভিযান কেবল আমাদের অঙ্গীকারের প্রমাণ নয়, বরং এ অঞ্চলে অবৈধ কার্যকলাপ দমন করার সক্ষমতার বাস্তব প্রতিফলন। আমরা নিয়মিত এই ধরনের অভিযান চালাব, যাতে সীমান্ত এলাকা থেকে সব ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা যায়।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
জনপ্রিয় সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ