কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়ার পিনিস ভাঙ্গা গভীর পাহাড়ি অঞ্চলে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের বিশেষ অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। অভিযান চলাকালীন পাচারের উদ্দেশ্যে জিম্মি অবস্থায় নারী ও শিশুসহ মোট ৪৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ অক্টোবর ২০২৫) কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আমরা মধ্যরাত ২ টা থেকে সকাল ৭ টা পর্যন্ত এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করি। উদ্ধারকৃতরা পাহাড়ের চূড়ায় গোপন আস্তানায় আটক ছিলেন। তাদের সুরক্ষা এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
উদ্ধারকৃতরা জানিয়েছেন, পাচারকারীরা তাদের বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরি, উন্নত জীবনযাপনের স্বপ্ন, অল্প খরচে বিদেশ যাত্রার সুযোগ এবং পরবর্তীতে কাজের মাধ্যমে খরচ পরিশোধের প্রলোভন দেখিয়ে জিম্মি করেছিল। পরে তারা মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন উপকূল থেকে বোট যোগে মালয়েশিয়ায় পাচার করার পরিকল্পনা করছিল। পাশাপাশি, পাচারকারীরা তাদের আটকে রেখে নির্যাতনের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায় করার চেষ্টা করছিল।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক আরও জানান, অভিযান চলাকালীন আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা পালিয়ে যায়। তাদের আটক করার জন্য আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি এবং অভিযান অব্যাহত আছে। মানব পাচার রোধে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান চালিয়ে যাবে।
উদ্ধারকৃতদের মধ্যে নারী ও শিশুরা বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ছিলেন। কোস্টগার্ড তাদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসে এবং প্রাথমিক চিকিৎসা ও খাদ্য-জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনও উদ্ধার অভিযানে সহযোগিতা করেছে।
অভিযানে মোট ৪৪ জন, নারী ও শিশু সহএই অভিযান মানব পাচার রোধ এবং পাহাড়ি অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সক্রিয় ভূমিকার প্রমাণ হিসেবে মূল্যায়িত হচ্ছে।